ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনীত মারিয়া কোরিনা মাচাদো নরওয়ে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে চাইলে তাকে দেশের আইনে ‘পলাতক’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল তারিক উইলিয়াম সাআব।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা ৫৮ বছর বয়সী মাচাদোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ঘৃণা উসকানি ও সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সেনা মোতায়েনকে সমর্থন করার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত চলছে।
নোবেল কমিটি চলতি বছরের অক্টোবরে মাচাদোকে শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। ভেনেজুয়েলায় ‘স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের প্রচেষ্টা’কে মূল্যায়ন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটি তাকে “লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অসামান্য নাগরিক সাহসের অন্যতম প্রতীক” বলে আখ্যা দিয়েছে।
মাচাদো দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে “অপরাধী শাসন” হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনটিকে “স্বাধীন ও সুষ্ঠু নয়” বলে প্রত্যাখ্যান করে, যার পর দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মাচাদো বিরোধী শিবিরকে তার বিকল্প প্রার্থী এডমুন্ডো গনসালেসের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াতনে ফ্রিডনেস আশা প্রকাশ করেছেন, ১০ ডিসেম্বর ওসলোতে অনুষ্ঠিতব্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাচাদো উপস্থিত থাকতে পারবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাচাদোর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে।
মনোনয়ন ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করে মাচাদো বলেছেন, “আমি তো সাধারণ মানুষ। এ পুরস্কারের যোগ্য আমি নই।”
এদিকে এক ভিডিওবার্তায় তিনি “স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র” প্রকাশ করে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


