জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার ঘোষিত এই বহুল–আলোচিত রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি প্রধান শিরোনামে প্রকাশ ও সম্প্রচার করেছে।
বিবিসি শিরোনাম করেছে— ‘নৃশংসভাবে বিক্ষোভ দমনের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক নেতা শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায়ের পর ভারতকে এখন বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দিল্লি তাকে ঢাকায় প্রত্যর্পণ করবে—এ সম্ভাবনা খুব কম বলেও উল্লেখ করেছে বিবিসি।
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে— ‘শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’। সংস্থাটি জানায়, কয়েক মাসের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার আগে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণ–অভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যাবে। তবে হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ রয়টার্সকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তাঁরা আপিল করবেন না।
এএফপি শিরোনাম করেছে— ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রায় ঘোষণার সময় আদালতে উল্লাসধ্বনি শোনা যায়। এএফপি জানায়, ভারত থেকে ফেরা সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ শেখ হাসিনা মানেননি। বহুল প্রতীক্ষিত এই রায় জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত হয়।
আল–জাজিরা তাদের লাইভ আপডেটের শিরোনাম করেছে— ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’। তারা উল্লেখ করে, গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে সহিংস দমন–নিপীড়নের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে হাসিনার বিচার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে। ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন।
সিএনএন শিরোনাম করেছে— ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’। তারা উল্লেখ করে, ছাত্র বিক্ষোভের ওপর সহিংস দমন–পীড়নের কারণেই তাঁর সরকারের পতন ঘটে।
যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান জানায়— ঢাকার আদালত গত বছরের গণ–অভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে— ‘শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: এখন কী হবে’। তারা উল্লেখ করে, ২০০৯ সালে যে ট্রাইব্যুনাল তিনি গঠন করেছিলেন, সেই ট্রাইব্যুনালই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
দ্য হিন্দু শিরোনাম করেছে— ‘ছাত্র দমন–পীড়নের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী কামালের মৃত্যুদণ্ড’।
পাকিস্তানের ডন শিরোনাম করেছে— ‘ছাত্রদের ওপর দমন–পীড়নের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’। তারা উল্লেখ করে, বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর এমন সময়ে রায় এল, যখন বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।


