ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: vk25-প্রথমবার মুখোমুখি বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির বন্ধুসুলভ আচরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ঘিরে আগে থেকেই তীব্র উত্তেজনা থাকলেও, দুই নেতার পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও প্রশংসা ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত মাত্রা দিয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প মামদানিকে স্বাগত জানান এবং নানা ইস্যুতে তাঁর প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, “তিনি কিছু রক্ষণশীলকেও চমকে দেবেন। আমার ভাবনার চেয়েও বেশি বিষয়ে আমরা একমত।”
মামদানিও কোনো বিতর্কিত মন্তব্যে না গিয়ে নিজের প্রধান ইস্যু জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট—নিয়েই কথা বলেন।
সংবাদকর্মীরা যখন দুজনের পুরোনো মতপার্থক্য এবং কঠোর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলছিলেন, তখন তারা দু’জনই সেসব এড়িয়ে চলেন এবং আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন।
বৈঠকে এক সাংবাদিক মামদানিকে প্রশ্ন করেন—তিনি কি আগে ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলেছিলেন? প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হেসে বলেন,
“ঠিক আছে, আপনি ‘হ্যাঁ’ বললেই হলো। ব্যাখ্যা করার চেয়ে এটা সহজ।”
অভিবাসন নীতি, গাজার পরিস্থিতি কিংবা স্বৈরাচারী মন্তব্য—এমন কোনো ইস্যুতেই ট্রাম্প মামদানিকে বিব্রত হতে দেননি। বরং সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনে তিনি বারবার মামদানিকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন।
বৈঠকের আগের দিন থেকেই রিপাবলিকানরা মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’, ‘উগ্র বাম’, এমনকি ‘জিহাদি’ বলেও আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাদের সেই প্রচারণাকে দুর্বল করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, তাকে সাহায্যই করব; ক্ষতি নয়।”
এর ফলে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ট্রাম্প–মামদানি সম্পর্ক একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
কেন এত নরম ট্রাম্প?হোয়াইট হাউস সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে—মামদানি নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে উঠে আসা এক তরুণ বিজয়ী রাজনীতিক। জীবনযাত্রার ব্যয় ইস্যুতে বর্তমানে ট্রাম্প চাপের মুখে। ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যে বিজয়ীদের প্রতি ট্রাম্পের সম্মানবোধ
এসব কারণেই ট্রাম্প মুখোমুখি সংঘাতে যেতে চাননি।
বৈঠকের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মামদানি বলেন,
“সাম্প্রতিক নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তাঁর মনোযোগের কারণেই অনেক নিউইয়র্কবাসী তাঁকে ভোট দিয়েছেন। আমরা দুজন মিলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কাজ করব—এটাই মূল বিষয়।”
রিপাবলিকান কৌশলের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে ট্রাম্প–মামদানির এই বৈঠক। রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও দুই ভিন্ন মেরুর দুই নেতার এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।