ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। প্রেসিডেন্ট প্যাট্টিস টালন–এর অনুগত সেনারা বিদ্রোহী দলের দখলকৃত স্থানগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরুদ্ধার করে বলে সরকার জানিয়েছে।
রবিবার সকালে একদল সৈন্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গিয়ে সংবিধান স্থগিতের ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় টিভি স্টেশনের কয়েকজন সাংবাদিককে জিম্মি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পরে প্রেসিডেন্ট টালন টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, “পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে।” বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর মধ্যেই দেশটির সবচেয়ে বড় শহর কোটোনুতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফ্লাইট ডেটা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগে নাইজেরিয়ার যুদ্ধবিমান বেনিনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ও পরে ফিরে গেছে। নাইজেরিয়া নিশ্চিত করেছে, তারা বিদ্রোহীদের টিভি স্টেশন ও একটি সামরিক ক্যাম্প থেকে সরাতে সহায়তা করেছে।
সরকার জানায়, অভ্যুত্থানে জড়িত সন্দেহে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে টিভি স্টেশন ভাঙচুরে অভিযুক্ত ১২ জনও রয়েছে।
বিদ্রোহী নেতা লে. কর্নেল প্যাসকেল টিগরি প্রেসিডেন্ট টালনের বিরুদ্ধে উত্তর বেনিনে নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, স্বাস্থ্য খাতে কাটছাঁট, কর বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দমননীতির অভিযোগ তুলেছেন।
বেনিনের উত্তরাঞ্চল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন অভ্যুত্থান চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে যে কোনও অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রেসিডেন্ট টালন, যিনি “কিং অব কটন” নামে পরিচিত ব্যবসায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে আগামী বছর দায়িত্ব ছাড়ছেন। দেশটির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী এপ্রিলে।


