ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: একে অপরের বিরুদ্ধে সম্পর্ক অস্থিতিশীল করার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক দুটি হত্যাকাণ্ড ঢাকায় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি এবং ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভ শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সীমান্তের দুই পাশেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ছাত্রনেতা হাদি হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভারতের পালিয়ে গেছে এমন অভিযোগে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়। যদিও বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির দেশ ছাড়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশই একে অপরের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে বিক্ষোভকারীদের মিছিল এবং চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের সামনেও বিক্ষোভ হয়।
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দুই দেশের ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তির উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। সামনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সহিংসতা ঠেকানোই অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কূটনীতিকদের মতে, উত্তেজনা কমাতে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং সংযত রাজনৈতিক ভাষাই এখন বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একমাত্র পথ।
@ইয়াসমিন রিমা


