ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ভারত থেকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত যুবলীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হত্যার নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টো রোডের ডিবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, হাদি হত্যার ঘটনায় তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান, আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হাদিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বাপ্পীর নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি করে হাদিকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সালকে ভারতে পালাতে সহায়তাও করেন বাপ্পী।
ডিবির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হত্যার পর বাপ্পীর ভগ্নিপতি রাজুর সহায়তায় মানবপাচারকারী ফিলিপ স্লাম ফয়সালকে সীমান্ত পার করে দেয়। সীমান্ত এলাকায় সিবিওন দিও ও সঞ্জয় চিচিম সহযোগিতা করে। গাড়ি দিয়ে সহায়তা করে উজ্জল। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন ও লুকাতে ফয়সালের বাবা-মা সহায়তা করেন বলে জানায় ডিবি। অস্ত্র সংরক্ষণ ও পালাতে ব্যবহৃত গাড়ি ভাড়াসহ একাধিকভাবে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠরা সহযোগিতা করে।
ডিবি জানায়, ফয়সাল ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তদন্তে তার সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাপ্পী ছাড়াও ঘটনায় অন্য কোনো মাস্টারমাইন্ড জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন তথ্য এলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে বলেও জানান ডিবি প্রধান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করা হয় শরীফ ওসমান হাদিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীরকে শনাক্ত করা হলেও ঘটনার পরপরই তারা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে জানা যায়, শুটার ফয়সাল ভারতে পালিয়ে গেছে।