লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ও শিক্ষকের বদলী না হওয়ায় কোটালীপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: এফ এম মিরাজুল সৈকত , কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ : দাফ্তরিক লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষকের স্থায়ী বদলী না হওয়ায় ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিয়ে ক্লাস বর্জন করালেন অভিভাবকেরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈ অপসারণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। তাৎক্ষনিক সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈকে অন্যত্র বদলী করা হচ্ছে বলে নির্দেশনা দেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক এমদাদ আলী বলেন, তপতী ম্যাডাম যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ে অরাজকতা তৈরি হয়েছে। ইচ্ছেমতো স্কুলে আসেন, ক্লাস নেন না। তার শিশু সন্তানকে ক্লাসে নিয়ে এসে পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাচ্চাদের কোলে তুলে দেন। ক্লাস নেওয়ার পরিবর্তে মোবাইল চালান। অভিভাবকেরা কিছু বললে এলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করাসহ বিভিন্ন হুমকি দেন। আমরা দ্রুত তার স্থায়ী বদলীর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেই। এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। তদন্তের একমাস পার হলেও তপতী ম্যাডামকে এখান থেকে অন্যত্র স্থায়ী বদলী করা হয় নাই। আমরা জানতে পারি তিনি শিক্ষা অফিসে ঘুস দিয়ে তার অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছেন এবং বদলী যাতে না হয় সেই তদবির চালিয়ে আসছেন। যে কারনে আমরা সকল অভিভাবকেরা আজ আমাদের সন্তানদের এই স্কুল থেকে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এক দফা এক দাবী হল এই বিদ্যালয় থেকে তপতি ম্যাডামের যতোদিন স্থায়ী বদলী না হবে ততোদিন আমাদের কোন সন্তান এখানে লেখাপড়া করবে না।
অভিভাবক শাহনাজ বেগম বলেন, এখানে কোন ভালো শিক্ষক থাকতে চায় না তপতী ম্যাডামের বাজে আচরণের জণ্য। শিক্ষকদের সঙ্গেও তার আচরণ ভালো নয়। ছাত্রছাত্রীরাও তার ভয়ে থাকে। ক্লাসে বাচ্চাদের ওপর নির্যাতন করেন।
অভিভাবক শাহাদাত গাজী অভিযোগ করেন, আমরা বহুবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তিনি উল্টো ভয়ভীতি দেখান। শুনেছি তার একাধিক বিয়ে রয়েছে। শুনেছি এক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফাঁসিয়ে ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। তার কারণে কেউ এই স্কুলে থাকতে চায় না। অনেক সহ্য করেছি আর না। আমরা তার স্থায়ী বদলী চাই। কতৃপক্ষ যদি তার বদলী না করে তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াবো না।
প্রধান শিক্ষক নমিতা মন্ডল বলেন, অন্যান্য দিনের মতো যথারীতি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল। সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে হাঠাৎ শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা এসে শ্রেণিকক্ষ থেকে তাদের সন্তানদের নিয়ে যান। এ সময় তারা আল্টিমেটাম দিয়ে যান যতোদিন সহকারি শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলী না হবে ততোদিন তাদের সন্তানেরা স্কুলে আসবে না। তাৎক্ষনিক বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।
অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলবেন না বলে জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। তার নির্দেশনায় বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈকে মৌখিকভাবে লোহারঙ্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে বদলি করা হয়েছে।একই সঙ্গে তার স্থায়ী বদলির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অভিভাবকদের জানিয়ে তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।
#এফ এম মিরাজুল  , 12.01.2026
01811953261
  • Related Posts

    জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন নাজিম, এবার বিভাগীয় দাবা প্রতিযোগিতায়

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কোটালীপাড়া উপজেলা , গোপালগঞ্জঃ দাবার বোর্ডে একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সাফল্যের মুকুট পরেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী নাজিম মোল্লা। উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার…

    কোটালীপাড়ায় তিন ফার্মেসিকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কোটালীপাড়া ,গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন ফার্মেসিকে মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোটালীপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালের সামনে…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *