ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারুণ্যনির্ভর কণ্ঠগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার পর মধ্যপন্থী রাজনীতির জায়গায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি শুরুতে একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আলোচনায় আসে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বাম ধারার রাজনীতিতে যুক্ত ব্যক্তিদের একসঙ্গে নিয়ে দলটি নিজেকে ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। তবে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে টিকে থাকার চাপে দলটি ইসলামপন্থী শক্তির সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা বাড়ে।
এমন প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বাংলাদেশপন্থী বাম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশের খবর। আগামী ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্মে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা নাজিফা জান্নাতের পাশাপাশি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা তরুণ নেতা তুহিন খানের নাম শোনা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নতুন উদ্যোগটি সময়োপযোগী। একদিকে অতি ডানপন্থী শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অন্যদিকে প্রগতিশীল রাজনীতির দুর্বল উপস্থিতি—এই দুইয়ের মাঝে তরুণদের নেতৃত্বে একটি বাম ঘরানার দল রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য আনতে পারে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। অতীতে বাম রাজনীতি শহরকেন্দ্রিক ও আন্দোলননির্ভর থাকলেও গণভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্মটি যদি শ্রমজীবী মানুষ, গ্রামীণ যুবসমাজ এবং প্রান্তিক শ্রেণির সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে না পারে, তাহলে এটি সীমিত পরিসরের মধ্যেই আটকে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সব মিলিয়ে, তরুণদের নেতৃত্বে আসতে যাওয়া এই বাম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অতি ডানপন্থার বিপরীতে কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে কি না—তার উত্তর নির্ভর করবে আদর্শিক স্পষ্টতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের বাস্তব সমস্যাকে রাজনীতির কেন্দ্রে আনতে পারার ওপর। আগামী দিনগুলোতেই স্পষ্ট হবে, নতুন এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।