ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিষেধাজ্ঞা ও শিল্পনীতিকে ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতাই এখন বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় স্বল্পমেয়াদি হুমকি—এমনটাই বলছেন বিশ্বনেতা ও নীতিনির্ধারকরা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত ডব্লিউইএফের গ্লোবাল রিস্কস রিপোর্ট ২০২৬–এ বিশ্বের ১ হাজার ৩০০–এর বেশি বিশেষজ্ঞ ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারীর মতামত নেওয়া হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১৮ শতাংশ ‘ভূ–অর্থনৈতিক সংঘাত’কে আগামী দুই বছরের মধ্যে বৈশ্বিক সংকটের সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ডব্লিউইএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জাহিদি বলেন, বাড়তে থাকা শুল্ক, বিদেশি বিনিয়োগে কড়াকড়ি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কাঁচামালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ—এসবই ভূ–অর্থনৈতিক সংঘাতের উদাহরণ। তাঁর ভাষায়, “যখন অর্থনৈতিক নীতির হাতিয়ার সহযোগিতার ভিত্তি না হয়ে কার্যত অস্ত্রে পরিণত হয়, তখনই ঝুঁকি বাড়ে।”
প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নতুন করে শুরু হওয়া শুল্কযুদ্ধ ও আগ্রাসী বাণিজ্যনীতিই এই ঝুঁকিকে তীব্র করেছে। ডব্লিউইএফ বলছে, বিশ্ব এখন বহুপাক্ষিকতা থেকে সরে গিয়ে প্রতিযোগিতামূলক এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে অর্থনীতি হয়ে উঠছে ভূরাজনীতির সম্প্রসারিত হাতিয়ার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্বল্পমেয়াদে ‘ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি’ এবং ‘সামাজিক মেরুকরণ’ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। তবে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পরিবেশগত সংকট—চরম আবহাওয়া, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও পরিবেশ ব্যবস্থার ভেঙে পড়া।
ডব্লিউইএফ সতর্ক করেছে, উচ্চ ঋণ, মূল্যস্ফীতি ও অস্থির বাজার পরিস্থিতির মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হলে বৈশ্বিক সংকটের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।