ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে কনসার্ট মঞ্চে দেওয়া একাধিক স্লোগান ঘিরেও শিক্ষার্থী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ডাকসু ও ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। কনসার্ট চলাকালে একটি স্টল থেকে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীরা এটিকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন।
আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তামাকজাত দ্রব্য বিনা মূল্যে বিতরণ, প্রচার বা ব্যবহার উৎসাহিত করা নিষিদ্ধ এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
ঘটনাটি নিয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনার মুখে তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে জানান, কনসার্টের স্পনসর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা শর্ত নির্ধারণে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ কেবল একটি ‘স্মোকিং জোন’ করার কথা জানিয়েছিল; বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তাঁর অজানা ছিল।
এদিকে কনসার্ট মঞ্চে মোসাদ্দিক আলী বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ব্যঙ্গাত্মক পাল্টা স্লোগান দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে এ ধরনের স্লোগান অনভিপ্রেত।
সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পুনরায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ এখনো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয় ।