ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কারাবন্দী স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক তরুণী ও তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসানের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২) এবং তাঁদের সন্তান সেজাদ হাসান।
শুক্রবার কানিজ সুবর্ণা ও তাঁর শিশুপুত্রের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দী থাকায় কানিজ সুবর্ণা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন এবং এর আগে শিশুপুত্রকে হত্যা করেন।
ঘটনার পর স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য জুয়েল হাসানকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। ফলে তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকেই স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখতে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পাওয়া যায়নি।
জুয়েল হাসানের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই তাঁরা প্যারোলের জন্য আবেদন করেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়েলের মামা হেমায়াত উদ্দিনের করা একটি আবেদনপত্রও ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রশাসনিকভাবে সেটি অনুমোদন পায়নি।
২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘প্যারোল মুক্তি–সংক্রান্ত নীতিমালা’ অনুযায়ী, বন্দীর স্ত্রী, সন্তানসহ নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের।
পরিবারের দাবি, সব শর্ত পূরণ করার পরও প্যারোল না পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মানবাধিকারকর্মীরাও বলছেন, নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর মতো ঘটনায় প্যারোল বিষয়ে আরও মানবিক ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা দরকার।
এদিকে জুয়েল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মামলার ঘটনার সময় তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।