ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অন্যতম সহযোগী আসামি রুবেল আহম্মেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি মামলার প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
দুই দফায় মোট নয়দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার রুবেলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় তিনি স্বেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রথম দফায় ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় শুরুতে দণ্ডবিধির ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হলেও পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনায় ৩০২ ধারাও (হত্যা) সংযোজন করা হয়, যা ২০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে যুক্ত হয়।
গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে চার্জশিটে অসন্তোষ জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন।
ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন পলাতক বলে জানা গেছে। মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
@ইয়াসমিন রিমা