ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলের নারী কর্মীরা নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ অভিযোগ তুলে ধরে। প্রতিনিধিদলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলা চারজনও ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটসংক্রান্ত কাজে এলাকায় গেলে নারী কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, সাইবার বুলিং, শারীরিক নির্যাতন, হিজাব ও নেকাব খুলে ফেলা, হুমকি-ধমকির মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত এ প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত নয় তাঁরা ‘দুষ্কৃতকারী’ বলে উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রাজু ভাস্কর্যে সাম্প্রতিক কিছু কর্মসূচির সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজনীতিবিষয়ক দায়িত্বশীলা হাবিবা আক্তার চৌধুরী বলেন, ইসিতে জমা দেওয়া তালিকায় ১৫টি স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু ঘটনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন এ কথাও জানান তিনি।
এদিন দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলও সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে। শান্তি কমিটি গঠনের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সেটিকে ‘আজগুবি’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বে নারী অংশগ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াত একটি ইসলামি সংগঠন হিসেবে ধর্মীয় নির্দেশনা মেনে চলে। তাঁর ভাষ্য, কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে নারী না আসাই তাঁদের অবস্থান। তবে তিনি বলেন, শীর্ষ পদে নারী থাকা নয়, বরং নারীর অধিকার বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও নারীর সার্বিক অবস্থার প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতিতে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসির কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে জামায়াতে ইসলামী।
@ইয়াসমিন রিমা