ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম অটোরিকশায় করে একাই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারের শুরুতেই প্রতীক পেতে বিলম্ব, মোটরসাইকেল জব্দ হওয়া এবং আর্থিক সংকট সব মিলিয়ে তিনি পড়েছেন নানা প্রতিবন্ধকতায়।
রোববার বেলা দুইটার পর পবা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার ফেততার মোড়ে তাঁকে দেখা যায়। অটোরিকশার হুডের ঝালর খসে পড়েছে, ভেতরে বসে তিনি পথচারীদের হাতে ফুটবল প্রতীকের প্রচারপত্র তুলে দিয়ে ভোট চাইছেন। সঙ্গে কোনো কর্মী নেই।
হাবিবা বেগম জানান, আইনি লড়াইয়ের পর ছয় দিন বিলম্বে প্রতীক পাওয়ায় প্রচারে পিছিয়ে পড়েছেন। প্রচারে গতি আনতে সকালে স্বামী মাসুদ রানা ওরফে হেলালকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হন। হেলমেট না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মোটরসাইকেল জব্দ করে। গাড়ি ছাড়াতে ট্রাফিক পুলিশ ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও তা ফেরত পাননি। পরে অটোরিকশা ভাড়া করে একাই প্রচারে নামেন। রাত আটটা পর্যন্ত ৮০০ টাকায় গাড়িটি ভাড়া নিয়েছেন বলে জানান চালক।
হাবিবার অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বেশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “একা আর কত লড়াই করব? অন্য প্রার্থীদের গাড়ি চললেও আমারটাই আটকে দিল। বাইকটা থাকলে প্রচার দ্রুত করা যেত।”
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, তাঁরা হাবিবার নাম জানেন এবং নিজের খরচে ফুটবল প্রতীকের প্রচার করছেন। কাশিয়াডাঙ্গার ঠিকাদার আকরাম আলী ও ব্যবসায়ী রজব আলী বলেন, আগে থেকে প্রচার শুরু করতে পারলে তিনি আরও এগোতে পারতেন।
দামকুড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অটোরিকশার মাইকে তাঁর রেকর্ড করা প্রচার ভেসে আসছে, আর তিনি বাজারের ভেতরে গিয়ে নারী ভোটারদের আলাদাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। অনেক ভোটারই নিজেদের ভোটকেন্দ্র ও আসন নিয়ে বিভ্রান্ত সেটা বোঝাতেই সময় দিতে হচ্ছে তাঁকে।
হাবিবা বেগম আগে মোহনপুর উপজেলার সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁকে অপসারণ করা হয়। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় তাঁদের একমাত্র আয়ের উৎস চায়ের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয় এবং সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে দুটি মামলা চলমান। সব মামলাই রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে তাঁর অভিযোগ।
একাই প্রচার চালানোর বিষয়ে হাবিবা বলেন, “আমার সঙ্গে কেউ থাকলেই তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। সমর্থকদের ঝামেলায় ফেলতে চাই না, তাই একাই মাঠে আছি।”
@ইয়াসমিন রিমা