ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ভোলায় একটি স্যালো টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। কেউ বিষয়টি পরীক্ষা করতে আগুন জ্বালাচ্ছেন, আবার কেউ ধারণা করছেন মাটির নিচে রয়েছে গ্যাসের খনি কিংবা পকেট গ্যাস।
ঘটনাটি ঘটে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে, শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ভেতরে স্থানীয় জেলে জেবল হক মাঝির বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাড়ির উঠানে ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি স্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। ৬০ ফুট গভীরতায় বোরিং করেও পানি না ওঠায় সন্দেহ হয় শ্রমিকদের। পরে টিউবওয়েলের মুখে আগুন দিলে মুহূর্তেই আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর থেকে প্রতিবার চাপ দিলে একই ঘটনা ঘটছে।
জেবল হক মাঝির পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম জানান, টিউবওয়েল বসানোর পর পানি না উঠলেও গ্যাস বের হচ্ছে। বিষয়টি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছে। কেউ বলছে পকেট গ্যাস, কেউ বলছে বড় গ্যাসক্ষেত্র। তবে তারা চান সরকারিভাবে পরীক্ষা করা হোক।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান। তিনি জানান, ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড বাপেক্স কে অবহিত করা হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় মাটির নিচে পকেট গ্যাস থাকলেও বড় খনি নাও থাকতে পারে। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ দ্বীপজেলা ভোলাতে বর্তমানে নয়টি কূপ ও তিনটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা জেলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে মজুদ রয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস।
@ইয়াসমিন রিমা