ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ভোটকেন্দ্রে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ থাকলেও নির্বাচন–পরবর্তী ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বড় ধরনের সহিংসতা এবার দেখা যায়নি এবং ভোটাররা সুষ্ঠুভাবেই ভোট দিতে পেরেছেন। তবে ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও ঘোষণার ধাপে অনিয়ম হয়েছে বলে দলটির ধারণা। তাঁর দাবি, অনেক সংসদীয় আসনে জামায়াতকে এক থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারানো হয়েছে এবং এমন আসনের সংখ্যা ৫০টির বেশি হতে পারে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও আদালতের শরণাপন্ন হয়ে পুনর্গণনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হবে।
নির্বাচনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোট শেষ হওয়ার আগেই কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা বা কাটাছেঁড়ার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যালট সংরক্ষণ ও পুনর্গণনার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের পক্ষে ‘গণজোয়ার’ তৈরি হয়েছিল দাবি করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু রাত নয়টার পর রহস্যজনকভাবে ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ও ১১–দলীয় জোট সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। তবে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
রুকন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান। এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন।
@ইয়াসমিন রিমা