ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও প্রবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে এবং নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। এছাড়া পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন। তিনি জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং পুঁজিবাজারের অনিয়ম তদন্তে পৃথক কমিশন গঠনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবদানকে তিনি প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নবগঠিত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঐকমত্য থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
@ইয়াসমিন রিমা


