ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বাণিজ্যিক ভবন ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত উত্তরা এলাকায় স্কয়ার গ্রুপের একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক রিকশাচালককে মারধর করে হত্যা করে তার মরদেহ ভবনের ভেতরে গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় রিকশাচালক ও এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ভবনটিতে ভাঙচুর চালান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।
পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আবারও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর যুগ্ম কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, একজন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও এখনো তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ভবনের ভেতরে তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


