ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ঝালকাঠির রাজাপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী ও তার জামাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে আহত জালাল আহম্মেদের স্ত্রী মোসা. কুলসুমা বেগম রাজাপুর থানায় এজাহার করেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জালাল আহম্মেদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের সময় ভিন্ন প্রতীকে অবস্থান নেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে জালাল আহম্মেদ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়িতে এলে হামলার শিকার হন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেল বাড়িয়া এলাকায় খালেকের স্কুলসংলগ্ন সড়কে ওত পেতে থাকা ১৫–২০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জালাল আহম্মেদের দুই পা গুরুতরভাবে জখম হয় এবং ডান হাত ভেঙে যায়।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার জামাই আনিসুর রহমান সিকদারকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহারে মো. জাকির হোসেনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জালাল আহম্মেদই আগে তাদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করেছেন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
@ইয়াসমিন রিমা


