ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্য আর আবেগের মিলনস্থল শোলাকিয়া ঈদগাহ। বছরের পর বছর ধরে এই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন লাখো মুসল্লি। তাদেরই একজন ময়মনসিংহের তারাকান্দার কৃষক আলী আকবর আকন্দ (৭২), যিনি টানা ৫৭ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশ নিচ্ছেন।
আলী আকবর জানান, কিশোর বয়সে চাচার হাত ধরে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি প্রথম শোলাকিয়ায় আসেন। সেই থেকে এই ঈদগাহ তাঁর কাছে শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং এক গভীর আবেগের নাম। তিনি বলেন, “শোলাকিয়ায় নামাজ না পড়লে ঈদের আনন্দ অপূর্ণ থেকে যায়।” এখন বয়সের কারণে হাঁটা সম্ভব না হলেও প্রতি বছরই এক দিন আগে এসে নামাজে অংশ নেন তিনি।
একইভাবে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইদ্রিস আলী (৭০) জানান, পাকিস্তান আমল থেকেই তিনি শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়ে আসছেন। প্রথমবার বড়দের সঙ্গে হেঁটে ও আংশিক রিকশায় এসে নামাজ আদায় করেন। বর্তমানে প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়েই প্রতি বছর শোলাকিয়ায় আসেন তিনি।
পুরোনোদের পাশাপাশি নতুন মুসল্লিদেরও দেখা মিলেছে এবারের জামাতে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অনেকেই প্রথমবারের মতো শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। সকাল ১০টায় নামাজ শুরু হয়। ইমামতি করেন বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, এবারের জামাতে ছয় থেকে সাত লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। মাঠজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাগ বা ছাতা নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
ঐতিহাসিক এই ঈদগাহের নামকরণ নিয়েও রয়েছে নানা জনশ্রুতি। মোগল আমলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ‘শ লাখ’ টাকা থেকে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। আবার ১৮২৮ সালে সোয়া লাখ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ঘটনাও এর নামকরণের সঙ্গে জড়িত বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো কণ্ঠে “আল্লাহু আকবার” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, যেখানে মিলিত হয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য আর মানুষের অগাধ ভালোবাসা।
@ইয়াসমিন রিমা


