ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নতুন এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল-কে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এনএসসি জানিয়েছে, বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৮ সালের নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ই-ভোটিং প্রক্রিয়ায় কারচুপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।
নতুন অ্যাডহক কমিটিতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের কয়েকজন সদস্যও স্থান পেয়েছেন, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খানসহ আরও কয়েকজন কর্পোরেট ও ক্রীড়া সংগঠক।
তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, বোর্ড ভাঙার সিদ্ধান্ত ‘অবৈধ’ এবং তিনি এখনো বিসিবির বৈধ সভাপতি। তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাঁর পক্ষের পরিচালকেরা।
এদিকে, অ্যাডহক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তামিম ইকবাল বলেছেন, দেশের ক্রিকেটের সুনাম ফিরিয়ে আনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য, এবং তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশের বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সংবেদনশীল। ফলে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাঠের খেলার চেয়ে বোর্ডরাজনীতি বড় হয়ে উঠছে।
@ইয়াসমিন রিমা


