ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বুধবার সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এর বিরোধিতা করেন। পরে ভোটাভুটিতে তাঁর আপত্তি নাকচ হয়ে যায়।
বিলটি মূলত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে দায়ের করা সব মামলা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে বিলের সংজ্ঞা ও প্রয়োগ নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ যাচাইয়ের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর দেওয়ায় ইনডেমনিটির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাঁর দাবি, কমিশন স্বাধীন না হলে এ আইন নিরপেক্ষভাবে কার্যকর হবে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মানবাধিকার কমিশনও সরকারনির্ভর হয়ে পড়তে পারে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলের লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যা একটি জাতীয় দাবি। তিনি জানান, সরকার একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক মানসম্মত কাঠামো তৈরি করা হবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে তদন্তের জন্য উপস্থাপন করা যাবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় ঘটনাটি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত, তাহলে আদালতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি তা রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর আগে ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি একই বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, যা এখন সংসদে পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে বৈধতা পেল।
@ইয়াসমিন রিমা


