ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে হাম ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালটিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাপ। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৫০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন ১২০০ থেকে ১৫০০ রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৮৪ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৭৩ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন। একইসঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে; বর্তমানে ৫৭ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে বেড সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট ১০৬টি শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় জরুরি অবস্থাতেও ডাক্তার পাওয়া যায় না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, জনবল অর্ধেকেরও কম থাকায় বাড়তি রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগ বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
তিনি দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানান। সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে জেলার প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
@ইয়াসমিন রিমা


