রাজধানীতে সাংবাদিকের ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের অভিযোগ সাবেক ছাত্রদল নেতা ইখতেদার কবিরের বিরুদ্ধে।
১. কর্মচারীকে মারধর
২. মালামাল লুট
৩. হত্যার হুমকি।
৪. আওয়ামী মালিক ট্যাগ লাগানোর অভিযোগ।
৫. অবৈধ রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায়
৬. পটুয়াখালী থেকে এসে শুরু করেন চাঁদাবাজী।
রাজধানীর আজিমপুরে এক সাংবাদিকের পরিচালিত ইন্টারনেট ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রদল নেতা ইখতেদার রহমান কবিরের বিরুদ্ধে। ভাড়া বাসায় থেকে সন্ত্রাস চাঁদাবাজী বাড়ি দখলসহ একাধিক অভিযোগ ওই নেতার বিরুদ্ধে।খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। বাবার নাম মরহুম হাতেম আলী হাওলাদার।মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করেন। চলে আসেন ঢাকায়। শুরু করেন চাঁদাবাজী আর দখলবানিজ্য।
সেখানে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে আজিমপুরে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতার ছত্রছায়ায় অনেকটা বেপোরয়া হয়ে উঠেছে ইখতেদার কবির। চাঁদাবাজী কারণের বিগত সরকারের আমলেও কয়েকবার গ্রেফতার করা হয় তাকে। দীর্ঘ সময়ে আত্মগোপনে থাকার পর হঠাৎ করে বেড়েছে তার তৎপরতা।
এলাকার বিভিন্ন ছোট খাটো ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তার ললুপদৃষ্ট বিভিন্ন ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের প্রতি। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১১টি প্রতিষ্ঠান কবিরসহ তার সহযোগী কথিত ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে সাবেক ছাত্রদলের অনেক নেতার সাথে তার সুসম্পর্ক থাকায় সেই প্রভাব তিনি কাজে লাগাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি এটি আই ডট নেট নামে ইন্টারনেট ব্যবসার মালিকানা কিনে নেন। তার সাথে আরো একজন পার্টনার রয়েছে। ব্যবসা ঠিকঠাক চলার পর এবছরের ফেব্রুয়ারী মাসে কবির তার এক কর্মচারীকে অফিসে না আসার হুমকি দেয়। এ ব্যবসা দখলে নেয়ার কথা জানায়। এখন থেকে এই ব্যবসা তার বলে জানায়। পরে তার বাহিনীকে নিয়ে ওই সাংবাদিকদের কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার দলে ভেড়ায়। পরে সহযোগীকে নিয়ে ভু-গর্ভস্থ ক্যাবল কেটে অন্তরঙ্গ নামে অন্য একটি কোম্পানীর লাইন যুক্ত করে। ওই সাংবাদিকের মোট ১৩শ গ্রাহকের কাছে সে অবৈধ রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করে। লিং থ্রি এর ফাইবার ভেন্ডর হ ওয়ার কারণে তারা লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করি। পরে লিং থ্রী জানায় আইনীভাবে পদক্ষেপ নিতে। এর এলাকায় আমার এক কর্মচারী আসলে তাকে
হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে কবিরের নেতৃত্ব ইন্টারনেট অফিস দখল ও রাতের অধারে মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ পরে বিষয়ে লালবান থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলে পুলিশ সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। এর পর মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ।
এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসির আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি মিমাংশার জন্য লালবাগ জোনের উপ- পুলিশ কমিশারের নির্দেশ রয়েছে। তবে ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে।অভিযুক্ত কবিরের সাথে টেলিফোনে কথা বল্লেন তিনি ইন্টারনেটের মালিকানা দাবি করলেও তার প্রমানে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ঢালাওভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ ও কলরেকর্ড হাতে এসেছে নিউজপোর্টালের কাছে। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা হয়েছে এবং এতে ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীরা হঠাৎ করেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, ইন্টারনেট সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুট করে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও জানান, দখলের পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান ফেরত পেতে চাঁদাও দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান জানান, মব এবং চাঁদাবাজদের কোন ছাড়া নেই, সে যে দলের হোক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দশনা তারা বাস্তবায়ন করবেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এমন কোন কাজ তারা বরদাস্ত করবে না।
এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি ব্যবসা দখলের ঘটনা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি প্রচেষ্টা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও মামলা দেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের ভাবমূতি ক্ষুন্নকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন মহলের।
মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা হল।