ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে এক নারী শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী মো. শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে। তিনি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হলেও এখনো অধরা রয়েছেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কলেজে গিয়ে পরিদর্শক আলিয়া খাতুনের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাহাদ আলী তাঁকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এ সময় আলিয়া খাতুনও তাঁকে চড় মারেন। ঘটনার পর রোববার শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শাহাদ আলী কলেজের একটি পুকুর চাষ করতেন এবং বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় তাঁকে ডাকা হয়েছিল। এ বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তর্কের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকও আহত হন।
ঘটনার পর রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান কলেজ পরিদর্শন করেন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।
এদিকে, আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি চেক প্রতারণা মামলায় শাহাদ আলীকে ২০১৯ সালে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আপিল খারিজ হলে ২০২৫ সালে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি আত্মসমর্পণ না করায় গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ জানান, তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, তবে মামলা করেননি। তাঁর ভাষ্য, মামলা করলে এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, ঘটনাটি মামলার যোগ্য হলেও ভুক্তভোগী মামলা করতে রাজি নন। তিনি আরও জানান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহাদ আলীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
@ইয়াসমিন রিমা