ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে বেশিরভাগ সমীক্ষা যেখানে বিজেপির জয় দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব দৃঢ়ভাবে দাবি করছে গতবারের মতো এবারও তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে, এমনকি আসন সংখ্যা ২৩০ ছাড়াতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠিত সংস্থা থাকলেও অধিকাংশই নতুন ও অপরিচিত। এর মধ্যে কয়েকটি তৃণমূলের পক্ষে ইঙ্গিত দিলেও বেশিরভাগই বিজেপির জয় সম্ভাবনার কথা বলেছে। তবে অতীতে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য পরিচিত অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া সাময়িকভাবে তৃণমূলের পক্ষে ফল প্রকাশ করেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে অতীতের উদাহরণ, যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় সব বড় সমীক্ষক সংস্থাই পশ্চিমবঙ্গের ফল নির্ধারণে ভুল করেছিল। ২০২১ সালে অধিকাংশ সমীক্ষা ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি বা বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল ব্যবধানে জয় পায় তৃণমূল ২১৩টি আসন নিয়ে। বিজেপি সীমাবদ্ধ থাকে ৭৭ আসনে।
একই চিত্র দেখা যায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও। বেশিরভাগ সমীক্ষা বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও চূড়ান্ত ফলে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি আসনে জয়ী হয়, আর বিজেপি পায় মাত্র ১২টি আসন।
এই প্রেক্ষাপটে বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস থাকলেও তৃণমূল শিবিরে তেমন উদ্বেগ নেই। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ‘ভিকট্রি সাইন’ দেখিয়ে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
তৃণমূলের অভিযোগ, বুথফেরত সমীক্ষার ওপর রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে এবং এটি ভোট গণনার আগে মানসিক চাপ তৈরির একটি কৌশলও হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই সমীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
@ইয়াসমিন রিমা


