ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শতাধিক হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে পাকা ধান ডুবে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা, বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বৃহত্তম হাওর ‘চাউলধনী’সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিঘার পর বিঘা পাকা ধান পানির নিচে নিমজ্জিত। পানির উচ্চতা বেশি থাকায় অনেক কৃষক জমিতে নামতে পারছেন না। তবে কিছু এলাকায় কৃষকেরা পানির নিচ থেকেই কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে ডাঙায় তোলা হচ্ছে।
ধান কাটার পরও বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা যাচ্ছে না, আবার শুকানোর জায়গা না থাকায় ধানের স্তুপ জমে থাকছে। এতে করে পুরো কৃষকসমাজে হতাশা নেমে এসেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল এবং ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় প্রায় ৯৫ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দৌলতপুর ইউনিয়নের কৃষক নিজাদ উদ্দিন বলেন, তার ৬ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এ ক্ষতি হতো না। একইভাবে রোশন আলী জানান, তার ১০ বিঘা জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন জানান, ধান ৮০ শতাংশ পরিপক্ক হলে দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের আগেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কৃষকেরা ঝুঁকি নিয়েই ধান কাটছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পানি নেমে গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
@ইয়াসমিন রিমা


