ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মুক্তাগাছায় আট বছর বয়সী শিশু আন্দালিভ সাদমান ওরফে রাফিকে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রাফি উপজেলার জমিনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম ও পাপিয়া সুলতানার ছেলে। সে স্থানীয় একটি রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, শুক্রবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে গিয়ে পরিবার প্রতিবেশী খোকন মিয়ার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে। পরিবারের দাবি, কয়েক দিন ধরেই পাখির বাচ্চা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের সঙ্গে নিতে চাইতেন খোকন।
শনিবার দুপুরে পুলিশ খোকন মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মা পাপিয়া সুলতানা বলেন, জুমার নামাজের আগে সুযোগ পেয়ে তাঁর ছেলেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কোনো শত্রুতা না থাকলেও এভাবে হত্যা করা হবে, তা তারা ভাবতে পারেননি।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, অনলাইন জুয়ার টাকার বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য, খোকনের সঙ্গে টাকা লেনদেন নিয়ে আগে বিরোধ হয়েছিল।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানিয়েছে, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত ক্ষোভ থেকেই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
@ইয়াসমিন রিমা