ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার আলোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন ফোরকান। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল। এ সময় পদ্মা সেতুর ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ফোরকানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এর পরদিনই নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান বছরখানেক আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে পাঁচজনকে হত্যা করার কথা জানিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে শিশুদের গলাকাটা মরদেহ, শারমিনের ঝুলন্ত মরদেহ এবং রসুল মিয়ার মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, পায়েশ ও কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান আগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
@ইয়াসমিন রিমা