ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে হানিফ মিয়া (৩৪) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি কৃষিজমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত হানিফ ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগম কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার পাঁচ আসামি জাকিরের বাবা লস্কর মিয়া, মা হেলেনা বেগম, স্ত্রী খুকি বেগম, আত্মীয় নাদিয়া আক্তার ও আয়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আয়েশা বেগম জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে তাঁর স্বামী ফোন করে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে।” পরে পরিবারের সদস্যরা জাকিরের বাড়িতে গিয়ে গেট বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা খোলেনি। পরদিন সকালে জাকিরের বাড়ির কাছেই হানিফের লাশ পাওয়া যায়।
পরিবারের অভিযোগ, জাকির এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় হানিফকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পেছনে হানিফের হাত আছে বলে সন্দেহ করতেন জাকির। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের লোকজন হানিফকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।
পুলিশ জানায়, রাতেই পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে হানিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। কুলিয়ারচর থানার এসআই আজহারুল ইসলাম বলেন, হানিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা দুপুরে তাঁর বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
@ইয়াসমিন রিমা