ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং “পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই”। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ চলাকালে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন বলে দাবি করেছে তার কার্যালয়।
ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমি নিয়ার বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত অবস্থায় থাকলেও ইরানের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, “অপারেশন রোর অব দ্য লায়ন” চলাকালে নেতানিয়াহু গোপনে আমিরাত সফর করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ বিন যায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসরায়েলের দাবি, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” এনে দিয়েছে।
গাজা পরিস্থিতিও উত্তপ্ত রয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে গাজা বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে, যদিও প্রতিদিনই গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কুয়েত অবৈধভাবে একটি ইরানি নৌযানে হামলা চালিয়ে চার ইরানি নাগরিককে আটক করেছে। কুয়েতের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আই আর সি সির সদস্য এবং তারা গোপন অভিযানে জড়িত ছিল।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন এবং এক্সার জেটের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দ্রুত কমে যেতে পারে। ইউরোপে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জেট ফুয়েলের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।


