ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এক নারী সহকর্মী। তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।
রোববার সকালে নিজ অফিসকক্ষে সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনার ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। অফিসের কাজের অজুহাতে ছুটির দিনেও অফিসে ডাকতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এসব প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন আবুল খায়ের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের লটারি কার্যক্রমে অনিয়ম করা হতো এবং অফিস ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ব্যক্তিগত বাসার মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে তাকে অপমান ও হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে এক স্টাফ তার দুই হাত চেপে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী তার শরীরে স্পর্শ করেন এবং যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নারীর দাবি, ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তাকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়, যা তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই নারীর বদলির আদেশ হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এসব অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, “ওই নারী আমাকে আমার কক্ষেই আটকে রেখেছিলেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ডেকেছি।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হেনস্তা বা যৌন হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
@ইয়াসমিন রিমা