ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার শখ পূরণ করতে নিজের দেড় বছরের শিশুকে এক লাখ টাকায় ‘বিক্রি’ করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। পরে ওই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো-ম্যাক্স কেনার কথা জানা গেছে। ঘটনার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ মুন্সিকে আটক করেছে।
ঘটনাটি উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে। মারুফ মুন্সি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি।
শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার একটি তিন পাতার চুক্তিপত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে মারুফ মুন্সি ও মো. ইমরানের নাম উল্লেখ রয়েছে। চুক্তিপত্রে শিশুটিকে ‘দত্তক’ দেওয়ার কথা বলা হলেও ভবিষ্যতে মারুফ বা তার ওয়ারিশদের শিশুটির বিষয়ে কোনো দাবি থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারুফ। তার দাবি, তিনি শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য ইমরানের কাছে দিয়েছিলেন। চুক্তিতে এক লাখ টাকার কথা থাকলেও তিনি ওই টাকা নেননি, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন। নিজের দেনা পরিশোধের প্রয়োজনেই শিশুটিকে কিছুদিনের জন্য অন্যের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত শনিবার সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, মারুফ শিশুটিকে ইমরান হোসেনের কাছে দিয়ে দিয়েছেন এবং পাওয়া টাকা দিয়ে আইফোন কিনেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার সন্ধ্যায় মারুফকে আটক করে এবং রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দাদা-দাদির জিম্মায় দেয়।
এদিকে শিশুটির ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান। শিশুটির নামে ব্যাংক হিসাব খোলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
@ইয়াসমিন রিমা