ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: (রাজশাহী): ইতালির রাজধানী রোম পোপের শহর হিসেবে পরিচিত, যেখানে খ্রিষ্টধর্মের কেন্দ্রবিন্দু ভ্যাটিকান সিটি অবস্থিত। তবে এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরেই গড়ে উঠেছে ইউরোপের বৃহত্তম মসজিদ – মসজিদ রোমে (The Mosque of Rome), যা সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
রোম মসজিদের পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে এবং নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। পুরো নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৯৫ সালে। এর নকশা করেন বিখ্যাত স্থপতি পাওলো পোর্তোগেসি, যিনি ইসলামী ও ইতালীয় রীতির এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন মসজিদের স্থাপত্যে। মসজিদটির ব্যয় বহন করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, এবং আরও কিছু মুসলিম দেশ।
রোম মসজিদ প্রায় ৩০,০০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে একসাথে প্রায় ১২,০০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এর মিনার প্রায় ৪০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট, যা রোমের ঐতিহাসিক কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। ভেতরের গম্বুজ, মোজাইক আর আলোকসজ্জা ইসলামী নকশার সাথে আধুনিকতাকে যুক্ত করেছে।
রোম মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয়, বরং এটি একটি ইসলামিক কালচারাল সেন্টার হিসেবেও কাজ করে। এখানে আরবি ও ইসলামিক শিক্ষার ক্লাস, কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা হয়। মসজিদটি অমুসলিমদের জন্যও উন্মুক্ত, যারা ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।
খ্রিষ্টধর্মের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে রোম মসজিদ ধর্মীয় সহিষ্ণুতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এটি প্রমাণ করে, ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতি সত্ত্বেও মানুষ সহাবস্থানে সক্ষম। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, যা ইউরোপের বহুত্ববাদী সমাজের ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।