ঠিক এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে, রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর ছয়জন শীর্ষ সমন্বয়ক আসিফ, নাহিদ, সারজিস, হাসনাত, নুসরাত এ বাকের। আন্দোলনের এক ক্রান্তিকালে, ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই ছয়জনের মুক্তি আন্দোলন ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত।
২০২৪ সালের জুলাই মাসজুড়ে চলা গণআন্দোলন ছিল এক ব্যতিক্রমী বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণজাগরণ। দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ যখন রাস্তায় নেমেছিল, তখন সেই আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে উঠে এসেছিলেন ছয়জন তরুণ—তাদের নাম আজও আন্দোলনকর্মীদের মুখে মুখে ফেরে।
তবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ করেই গোপনে ডিবি কর্তৃক আটক করা হয় এই ছয়জনকে। কোনোরূপ ওয়ারেন্ট বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই টানা তারা নিখোঁজ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্বলে ওঠে আন্দোলনের আগুন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ঘটনার প্রতি নজর দেয়।
চূড়ান্ত চাপে পড়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট দুপুরে ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ওই ছয় সমন্বয়ককে। সেদিন মিন্টো রোডের সামনে অপেক্ষমাণ আন্দোলনকারীদের করতালির মধ্যে দিয়ে তারা বের হয়ে আসেন। চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও দৃঢ়তায় কোনো ঘাটতি ছিল না।
আজ সেই ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। স্মৃতিতে ফিরে আসে সেদিনের উত্তাল ঢাকার রাজপথ, ছাত্রছাত্রীদের মোমবাতি সর্বোপরি এক অন্যায়কে প্রতিহত করে ছয়জন তরুণের রাজপথে ফেরা।