ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: আগস্ট মাস এলেই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বিশেষ আবেগ কাজ করে। রাষ্ট্রীয় ঘরানায় আগস্ট পরিচিত “শোকাবহ আগস্ট” হিসেবে—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই এই শোকাবহ আবহ। প্রতি বছর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজও এই দিনকে স্মরণ করে নানা আনুষ্ঠানিকতায়।
কিন্তু ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে এসে আগস্টের অর্থ এবং উপলক্ষ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। কারণ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে দিনটি “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের” বিজয়ের দিন হিসেবে বিবেচিত—সে দিনটিই এখন অনেকের কাছে “বিজয়ের আগস্ট” হয়ে উঠছে।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নিঃসন্দেহে একটি বড় জাতীয় ট্র্যাজেডি। তবে সেটি ছিল অতীতের ইতিহাস—যা আমাদের শেখায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের গুরুত্ব, আত্মত্যাগ এবং ক্ষমতার সীমারেখা। কিন্তু জুলাই-আগস্ট ২০২৪ ছিল বর্তমান প্রজন্মের জাগরণ, বর্তমান সময়ের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাস্তায় নামা মানুষের গল্প। সে আন্দোলনের জোয়ারে পতন হয় ক্ষমতাসীন একচেটিয়া দমননীতির। ৫ই আগস্ট পালিয়ে যায় ১৭ বছর যাবৎ জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা স্বৈরাচারের মসনদ৷ দেশ ছেড়ে পিছন দিয়ে পালিয়ে যায় খুনি শেখ হাসিনা।
এই প্রশ্ন এখন সময়ের কাছে প্রাসঙ্গিক। শোক পালন কি ইতিহাসের সঙ্গে সংহতি? নাকি শোককে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট রাজনীতি টিকিয়ে রাখার কৌশল?
অন্যদিকে, ৫ আগস্ট কেবল একটি মুক্তির দিন নয়, একটি স্বপ্নের দিন—যখন মানুষ বিশ্বাস করেছিল রাষ্ট্রের উপরেও জনগণের শক্তি আছে।
যেখানে ১৫ আগস্টের স্মরণ বহু দশক ধরে একদলীয় রাষ্ট্রীয় উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ৫ আগস্ট এক নতুন জাতীয় চেতনার জন্ম দিয়েছে—যা এসেছে তরুণদের হাত ধরে, রক্ত, গ্রেপ্তার আর গণআন্দোলনের ভিতর দিয়ে।