ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হলো বহুল প্রত্যাশিত জুলাই ঘোষণাপত্র। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যেখানে পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন, নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।
মূল ৬ দফা ঘোষণা:
১. সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া:
জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২. নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ কাঠামো:
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—যা হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত।
৩. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন:
পুরনো দলের দখলদারি প্রশাসনের পরিবর্তে একটি অরাজনৈতিক, দক্ষ আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
৪. নির্বাচনোত্তর জবাবদিহিমূলক সরকার:
আগামী নির্বাচনে যারা জয়ী হবে, তাদের জন্য বাধ্যতামূলক জবাবদিহি কাঠামো তৈরি করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার এবং অংশগ্রহণ আইনি সুরক্ষা পাবে।
৫. আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পর্যবেক্ষণ:
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৬. জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষমা:
রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় পুনর্মিলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব রাজনৈতিক বন্দির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, তাদের মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই ঘোষণাপত্রে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়—
“একটি মুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই আজ আমরা এই রূপরেখা দিচ্ছি।”
এনসিপি ও ছাত্র ঐক্য জোট ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে এটি “নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর।”
বিএনপি এই ঘোষণাপত্রের কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে, তবে সরাসরি বিরোধিতা করেনি।
আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই একে “গণতন্ত্রের পথে সাহসী অগ্রযাত্রা” বলে মন্তব্য করেছে।