ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে টানা উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত দেড় দশকের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তাঁর ভাষায়, “ক্যাম্পাসে রাজনীতির নতুন ধরন কেমন হবে, সেটা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের সবার সঙ্গে আলোচনা হবে।”
রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডাকসু-কেন্দ্রিক কার্যক্রমে সক্রিয় সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকের শুরুতেই উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, সমঅধিকারের ভিত্তিতে হলে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে এই আলোচনা ভূমিকা রাখবে।
তবে সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো বৈঠক বর্জন করে। তারা শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ তোলে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) জানায়, তারা হলে ও একাডেমিক ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক কাঠামো দেখতে চায় না। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দাবি তোলে, শিবিরের গোপন রাজনীতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ছাত্ররাজনীতির নতুন রূপরেখা তৈরি করতে হবে।
ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ সভায় বলেন, “ছাত্ররাজনীতি থাকতেই হবে, তবে কেমন হবে তা শিক্ষার্থীদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।”
এর আগে, ৮ আগস্ট ঢাবির হলে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। এরপর ৯ আগস্ট গভীর রাতে বিক্ষোভের মুখে আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য।