ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছেন। বন্ধকি ঋণ (মর্টগেজ) নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে বিষয়টি আদালতে গড়ালে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্ক শুরু হতে পারে।
কুককে ২০২২ সালে ফেডের বোর্ডে নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অভিযোগ হলো, ২০২১ সালে মিশিগান ও জর্জিয়ায় দুটি বাড়ির জন্য মর্টগেজ নেন কুক এবং উভয় ক্ষেত্রেই ‘প্রধান বাসস্থান’ হিসেবে দেখান। বিষয়টি সম্প্রতি ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক উইলিয়াম পুলটে উত্থাপন করেন এবং তা তদন্তের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির কাছে পাঠানো হয়।
ট্রাম্প চিঠিতে কুকের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা ও অপরাধমূলক আর্থিক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁর সততা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ ও ১৯১৩ সালের ফেডারেল রিজার্ভ আইনের অধীনে বরখাস্তের ক্ষমতা নিজের হাতে আছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে কুক জানিয়েছেন, তিনি পদ ছাড়বেন না। তাঁর ভাষায়, “শুধু একটি টুইটের কারণে আমি পদ ছাড়ব না। তবে আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং যথাযথ তথ্য দিয়ে উত্তর দেব।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকের মর্টগেজ লেনদেন ফেডে যোগদানের আগের এবং সিনেট অনুমোদন প্রক্রিয়ায় তা নথিভুক্তও ছিল। তাই অতীতের ঘটনা তুলে এখন অপসারণের চেষ্টা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এসজিএইচ ম্যাক্রো অ্যাডভাইজর্সের টিম ডুই মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আসলে ফেডকে নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে বিষয়টি মার্কিন অর্থনৈতিক নীতি ও ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দেবে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর