ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে সম্মুখসারিতে থাকা ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে নারীরা অনেকটাই পিছিয়ে।
এবার ডাকসুর ২৮টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৬২ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ ভোটারদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই ছাত্রী।
প্রার্থীদের ও শিক্ষকদের মতে, নারীরা ব্যাপকভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ভিন্ন মত প্রকাশ করলেই সামাজিক মাধ্যমে কুৎসা, কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এতে অনেক ছাত্রী প্রার্থী হতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রচারের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে—ছাত্রীদের হলে রাত ১০টার পর প্রচার বন্ধ থাকলেও ছাত্রদের হলে রাত ১১টা পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে।
ডাকসুর ইতিহাসে ভিপি ও জিএস পদে এখন পর্যন্ত নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র তিনজন নারী—বেগম জাহানারা আখতার (১৯৬০-৬১), মতিয়া চৌধুরী (১৯৬৩-৬৪) এবং মাহফুজা খানম (১৯৬৭-৬৮)।
এবার ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন নারী প্রার্থী, আর জিএস পদে আছেন মাত্র একজন। প্রার্থী হয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আলোচিত সানজিদা আহমেদ (গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে), উমামা ফাতেমা (ভিপি পদে)সহ কয়েকজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীরা আন্দোলনে সামনে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বে তাঁদের জায়গা টেকসই হয়নি। তবে এবার ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ও প্রার্থী হওয়া তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন বার্তা দিচ্ছে।
৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
@ইয়াসমিন রিমা,ভেতরের খবর