ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ তালিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জমিজমার বিরোধে খুন, দুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতায় মারা যাওয়া অনেকের নামও সরকারি প্রজ্ঞাপনে শহীদ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অথচ তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
রাজধানীর ওয়ারীতে বিএনপি নেতা মো. আল-আমিন ভূঁইয়া ও তাঁর ভাই নুরুল আমিন গত বছরের ১৪ আগস্ট জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন। পুলিশি তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হলেও আল-আমিনকে শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন—এই মৃত্যু আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপিত শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর মধ্যে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এমনকি ঢাকায় রিকশা চালানোর সময় অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া জামাল উদ্দিনের নামও এই তালিকায় উঠে গেছে। তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই সরকারি সহায়তা পেয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, শহীদ তালিকা নিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই চলছে। সব জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, যাঁদের মৃত্যু আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
প্রত্যেক প্রজ্ঞাপিত শহীদ পরিবারকে সরকার এককালীন ৩০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং রাজধানীতে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ কারণেই ক্ষতিপূরণের আশায় অনেক পরিবার প্ররোচিত হয়ে নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করলেও শহীদ তালিকা নিয়ে বিতর্ক এখন সেই ইতিহাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ছবি তালিকা—প্রথম আলো


