ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: সড়কে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন উচ্ছেদে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেমন উদ্যোগ নিয়ে শেষ পর্যন্ত থেমে গিয়েছিল, তেমনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও পরিবহন মালিক–শ্রমিক সংগঠনের চাপের মুখে কার্যকরভাবে এগোতে পারছে না।
সরকারি হিসাব বলছে, দেশে বৈধ যানবাহন আছে প্রায় সাড়ে ৬৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ বা লক্কড়ঝক্কড়। অন্যদিকে, অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ, যা সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৪১ জন। এর মধ্যে শুধু তিন চাকার ছোট যানেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭৮৬ জন। বেসরকারি সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সালে মোট নিহতের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এসব যানবাহনের যাত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকার গত মে মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-ট্রাক উচ্ছেদের সময়সীমা শেষ করে জুলাইয়ে অভিযান শুরু করলেও পরিবহন মালিক–শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে কার্যত তা বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র ৫১টি পুরোনো বাস-ট্রাক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিন চাকার যান এবং পুরোনো বাস-ট্রাক উচ্ছেদ না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এসব যান দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে, তাই নীতিমালার আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণ ও কারিগরি উন্নয়নের বিকল্প নেই।
এদিকে পরিবহন মালিকরা বলছেন, নতুন বাস কেনার জন্য সরকারের সহজ শর্তে ঋণসহায়তা ছাড়া পুরোনো বাস-ট্রাক সরানো সম্ভব নয়। সরকারও সহজ শর্তে ঋণ ও আমদানি নীতি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
@ইয়াসমিন রিমা,ভেতরের খবর