ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সফরের ফাঁকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম জিটিও’র মেহদি হাসানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত, শেখ হাসিনার ভারত আশ্রয়, নির্বাচন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
ইউনূস বলেন, ছাত্র আন্দোলনের রক্ত ও আত্মত্যাগের পর তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুরুতে দ্বিধা থাকলেও ছাত্রদের অনুরোধ ও যুক্তিতে তিনি রাজি হন। শেখ হাসিনার পতনের রাতের কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “রোমাঞ্চকর, অবশেষে এটা ঘটল।”
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভারত গমন প্রসঙ্গে ইউনূস জানান, তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ থাকলেও তারা রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। মোদির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি তাঁকে বলেছিলাম, হাসিনা যেন বাংলাদেশের বিষয়ে কথা না বলেন। উত্তরে মোদি বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।”
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সমালোচনার জবাবে ইউনূস বলেন, দলটি নিষিদ্ধ নয়, বরং তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “এটা নিবন্ধন বাতিল নয়। তারা এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে যেকোনো সময় স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া সম্ভব।”
তবে এ সিদ্ধান্তকে কতটা গণতান্ত্রিক এ প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি বিচার করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ অনুশোচনা প্রকাশ করেনি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা ছিল।
অধ্যাপক ইউনূস স্বীকার করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও ভোটার আছেন। তবে তিনি বলেন, “তাঁরা বৈধ ভোটার, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। শুধু আওয়ামী লীগের মার্কা ব্যালটে থাকবে না।”
এই সাক্ষাৎকারে মূলত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টিই প্রাধান্য পায়। ইউনূস জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূল হলে দলটির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া সম্ভব।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর