ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাবার মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে তড়িঘড়ি করে ছুটে আসেন রাজমিস্ত্রীর কাজ করা হানিফ আলী। ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা পর্যন্ত ৩২০ কিলোমিটার পথ মাত্র ৯ ঘণ্টায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই পারি দিলেও শেষমেষ আটকে যান পদ্মার ঘাটে। শুধু নদী পার হওয়ার জন্যই তার বাবার জানাজা বিলম্বিত হয়।
অভিযোগ, খেয়াঘাটের মাঝি ও ইজারাদাররা যাত্রীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন নৌকা ভর্তি না হলে ছাড়বে না। অন্যথায় একজন যাত্রী আর একটি ব্যাগের জন্য ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। শেষমেষ ৩০ টাকার ভাড়ার দূরত্ব পার হতে হানিফকে অপেক্ষা করতে হয় দুই ঘণ্টা।
এমন ভোগান্তি হানিফ আলীর একার নয়। পদ্মার ওপারে বসবাস করা হাজারো মানুষ প্রতিদিন একই দুর্দশার শিকার।
জানা যায়, ফারাক্কার ভাটিতে ভারত থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির প্রভাবে প্রায় দেড় মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১১ হাজার পরিবার। পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ ভাঙন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেয়াঘাট ইজারাদারদের ‘সিন্ডিকেট’।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব ইজারাদার জোরপূর্বক টোল আদায় করছে। এক কেজি বেগুন, একটি ডাব কিংবা একটি গাছ পর্যন্ত টোল ছাড়া পার হচ্ছে না। টাকা দিতে না পারলেই আটকে রাখা হয় মালামাল এমনকি মরদেহও।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ইজারাদাররা আবারও অন্যদের কাছে ঘাট হস্তান্তর করেন। হাতবদলের এই চক্রের কারণেই বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে পানিবন্দি ও ভাঙনের মতো দুর্যোগের পাশাপাশি পদ্মাপাড়ের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে খেয়াঘাট ইজারাদারদের কাছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “খেয়াঘাটের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। এর বাইরে কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুর্যোগের সময় জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করার পরিবর্তে ইজারাদাররা ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


