ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখে যাত্রা করা ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র একটি বাদে সব কটি জাহাজ আটকানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রায় দুই বছরের যুদ্ধের ফলে গাজায় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই নৌবহরের লক্ষ্য ছিল অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো। কিন্তু গত বুধবার ইসরায়েলি নৌবাহিনী ৪১টি জাহাজের মধ্যে ৪০টিই আটকে দেয়। এসব জাহাজে চার শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাউ এবং নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা রয়েছেন। তাঁদের ইসরায়েল থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্পেনের বার্সেলোনায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। ফ্রান্সের প্যারিস ও মার্সেইতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক শ মানুষকে আটক করে পুলিশ। ইতালিতে প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে; রোম, মিলান, তুরিনসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। আয়ারল্যান্ড, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, গ্রিস ও মালয়েশিয়াতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার আইনজীবী ডায়ানা বুট্টু ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনীর ওঠা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ আরও বেড়ে যাবে এবং গাজার অবরোধ ভাঙার দাবিই এখন বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের প্রধান স্লোগান।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


