ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়ায় পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছিলেন ইজারাদার সুলতান আলী বিশ্বাসের শ্রমিকরা। হঠাৎ কুষ্টিয়া প্রান্ত থেকে স্পিডবোট ও বড় নৌকায় চড়ে এসে গুলি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। অন্তত ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হলেও কেউ হতাহত হয়নি। তবে নদীপারের কয়েকটি বাড়ির টিনের বেড়া ও চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহালের ইজারাকে কেন্দ্র করে ‘কাকন বাহিনী’ নামে পরিচিত একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার বিস্তীর্ণ পদ্মা চরাঞ্চল এখন এই বাহিনীর দখলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গোলাগুলিতে দুই কৃষক নিহত ও দুজন আহত হন। নিহতরা মণ্ডল গ্রুপের আমান ও নাজমুল মণ্ডল। ওই ঘটনায় কাকন বাহিনীর সদস্য লিটনও মারা যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাকনের পূর্ণ নাম রোকনুজ্জামান কাকন ওরফে ইঞ্জিনিয়ার কাকন। পাবনার ঈশ্বরদীর কলেজ রোডে বসবাস করলেও তাঁর পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। পান্না বাহিনীর সাবেক সদস্য কাকন ২০০৭ সালে সৌদি আরব থেকে ফিরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় বালুমহাল দখল ও আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।
চলতি বছর কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছে, যার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাকন বাহিনী বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখল করে ভয়ংকর ত্রাস সৃষ্টি করেছে।
গত জুলাইয়ে এক রাখালকে গুলি করার অভিযোগও এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরে সেনাবাহিনী ও র্যাবের অভিযানে কাকনের আস্তানা থেকে অস্ত্র, গুলি, মাদক ও মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার হয়।
দৌলতপুরের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১২০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে পদ্মার চরে সাঁড়াশি অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, “এ অভিযান চলমান থাকবে। চরাঞ্চল থেকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত থামবে না।”
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর