ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে অস্থিরতা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার কঠিন চাপে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এ ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে, ফলে সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় সব দলই একজোট হয়েছে। এতে করে ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে দিন দিন।
তবে রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয়, সচেতন সাধারণ মানুষ চায় দ্রুত নির্বাচন। তাদের মতে, গত ১৫ বছরে ভোটাধিকার খর্ব হয়েছে, জালভোট ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে, নির্বাচিত সরকার না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরাও দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “নির্বাচিত সরকার ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।” বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার জানান, “নির্বাচিত সরকার না থাকায় বিদেশি বায়াররা অর্ডার দিতে চান না, ফলে ২৫ শতাংশ অর্ডার অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।” রিহ্যাবের সহসভাপতি এম এ আউয়াল বলেন, “নির্বাচিত সরকার ছাড়া বিনিয়োগে স্থবিরতা, আতঙ্কে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।”
দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজয় শুভ বলেন, “ভোট আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার হাতিয়ার।” সিলেটের তরুণ আইনজীবী রণেন সরকার রনি বলেন, “স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই।”
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইননোভিশনের জরিপে দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ মানুষ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চান। বিশেষ করে নতুন ভোটাররা প্রথমবার ভোট দেওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত।
অন্যদিকে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজন অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়সাপেক্ষ। তারা বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে নতুন জটিলতা তৈরি হবে।”
তাদের একটাই দাবি গণভোট নয়, আগে জাতীয় নির্বাচন হোক।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর