ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকার হাক্কার পাড়ে একই দিনে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাগুলো ঘটে গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি ভোরে, আরেকটি সকালে। পুলিশ ঘটনাগুলোকে “গণপিটুনি” হিসেবে প্রচার করলেও প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি এগুলো ছিল পরিকল্পিত হত্যা।
প্রথম ঘটনায় মো. সুজন ওরফে বাবুল ও শরীফকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় পেটানো হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সুজন। সকালে ঘটে আরেকটি অনুরূপ ঘটনা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পেটানো হয় মো. হানিফ ও ফয়সালকে। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান হানিফ।
প্রথম আলোর হাতে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, যাঁরা পেটাচ্ছিলেন, তাঁদের মুখ স্পষ্ট। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন নবীনগর হাউজিংয়ের স্থানীয় টহল টিমের সদস্যরা। এ টহল টিমের প্রধান স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ১০০ নম্বর সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আক্তার হোসেন।
হত্যাকাণ্ডের ভিডিও পুলিশকে দেখালেও মামলা নেয়নি মোহাম্মদপুর থানা। পরিবারকে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
নিহতদের পরিবার বলছে, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাকে ‘গণপিটুনি’ হিসেবে প্রচার করছে, যাতে সত্যিটা ধামাচাপা পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কেউ ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়েনি; বরং আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই দুই দফায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ভিডিও ফুটেজে আক্তার হোসেনসহ নবীনগর পশ্চিম ইউনিট বিএনপির সভাপতি হাসনাইন, সদস্য মালেক, জহিরুল ও স্থানীয় নৈশপ্রহরীসহ অন্তত ১০ জনকে পেটাতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে আক্তার হোসেন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের কেউই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো মন্তব্য দেননি।
পুলিশ বলছে, নিহত দুজন পেশাদার ছিনতাইকারী ছিলেন, তাঁদের মৃত্যুর পর এলাকায় শান্তি ফিরেছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি ছিল প্রকাশ্য হত্যা, যার বিচার হওয়া জরুরি।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, “যে-ই হোক, কোনো হত্যাকাণ্ডই গণপিটুনি বলে পাশ কাটানো যায় না। পুলিশ যদি এমনভাবে ঘটনাকে আড়াল করে, সেটি গুরুতর অপতৎপরতা।”
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর