ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগেই আরপিওর ২১ ধারার সংশোধনীকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। গত ছয় দিনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে।
জামায়াতের অভিযোগ, সরকার বিএনপির চাপে নতি স্বীকার করে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত খসড়া সংশোধনী বাতিল করেছে। অন্যদিকে বিএনপি মনে করে, জামায়াত ইচ্ছে করেই নির্বাচন পেছাতে চায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর খসড়ায় ২১ ধারা পরিবর্তন করে উপদেষ্টা পরিষদ ২৩ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী, জোটে অংশ নিলেও দলগুলোকে নিজ নিজ প্রতীকেই ভোট করতে হতো। এতে জামায়াত সন্তুষ্ট হলেও বিএনপি ও তার সমমনা ছোট দলগুলো অস্বস্তিতে পড়ে। পরে ৩০ অক্টোবর সরকার আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, যাতে জোটে ভোট করলেও ‘নিজ দলের প্রতীক’-এর বাধ্যবাধকতা থাকে না।
বিএনপি মনে করছে, নতুন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য সুবিধাজনক। কারণ, জোটের ছোট দলগুলো ‘ধানের শীষ’ প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিলে জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে। বিপরীতে জামায়াতসহ আটদলীয় জোট মনে করে, একক প্রতীকে নির্বাচন করলেই সমন্বয় সহজ হয়।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের ওপর।
অন্যদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, বিএনপি ভেতরে ভেতরে ‘ফ্যাসিস্ট মানসিকতা’ থেকে বের হতে পারছে না। তিনি বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি ও জামায়াতের এই বিরোধ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহর মতে, জুলাই সনদের পর তৈরি হওয়া ঐক্য এখন অনৈক্যে রূপ নিচ্ছে যা রাষ্ট্রের জন্য শুভ নয়।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর