মস্তিষ্ক কেন অপমান মনে রাখে দীর্ঘদিন, কিন্তু প্রশংসা ভুলে যায় দ্রুত

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্ক নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে মনে রাখে, কিন্তু ইতিবাচক প্রশংসা বা ভালো মুহূর্তগুলো দ্রুত ভুলে যায়। এটি শুধুমাত্র একটি সংখ্যাগত বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়, বরং “Negativity Bias” নামে পরিচিত একটি মানসিক বাস্তবতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের amygdala এবং hippocampus একসাথে কাজ করে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার স্মৃতি দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় emotional memory consolidation। এটি মানুষের প্রাকৃতিক survival instinct এর অংশ, যাতে আমরা অতীতের ভুল বা কষ্ট থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। অপমান, ব্যর্থতা বা মানসিক আঘাতের মুহূর্তগুলো মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ছাপ ফেলে।
অন্যদিকে, প্রশংসা বা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ক দ্রুত প্রক্রিয়া করে এবং সাধারণত অল্প সময়ের জন্য মনে থাকে। ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সেই প্রশংসা বা সুন্দর কথাগুলো ভুলে যাই, যদি তা বারবার মনে না করি বা অনুভব না করি।মনোবিজ্ঞানীরা সুপারিশ করছেন, প্রতিদিন নিজের অর্জন, ছোট ছোট সাফল্য, প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতার মুহূর্তগুলো লিখে রাখুন। এতে মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল কানেকশন (neural connections) তৈরি হয়, যা ইতিবাচক অনুভূতি ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
অপমান মনে রাখা স্বাভাবিক, কিন্তু ভালোবাসা, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা মনে রাখা একটি সচেতন অনুশীলন। আপনার মন যতটা কষ্ট ধরে রাখতে পারে, ততটাই ভালোবাসা ও ইতিবাচক অনুভূতিও ধারণ করতে সক্ষম যদি আপনি তাকে শেখান।

স্পেশাল ক্রসপন্ডেড, রাজ।

  • Related Posts

    আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের পরও নির্মাণকাজের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

    কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কলাতলী মোড়ে ৩৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আরএফ বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে। আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের পরও সেখানে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগে…

    মায়ের হাত ভাঙার কথা জানালেন জামায়াতের এমপি রাহাদ

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী করার কারণে তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁর মাকে মারধর…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *